00

Hawa VS Sea Fog

হিউম্যান ট্রাফিকিং নিয়ে পুরো কোরিয়া তোলপাড় করা একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০১৪ সালে নির্মিত হয়েছে Sea Fog নামের এই সিনেমাটি।

কিছু জেলে যাদের অন্য নিবারণ এর উৎস হিসেবে মৎস ধরাই ছিলো প্রথম পন্থা। কিন্তু কিছুদিন যাবত তারা লক্ষ করতেছে যে সমুদ্রে জাল ফেললে এখন আর আগের মতো মাছ উঠতেছে না। আর অন্যদিকে তাদের পরিবার পরিচালনা করাও অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে উঠছে। এবং পরিশেষে তারা একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হলো যে.. তারা অন্য একটা সোর্স খুজবে। যা দ্বারা অল্প সময়ে অনেক টাকা উপার্জন করতে পারবে। তারপর নৌকার ক্যাপ্টেন এর স্বরণাপন্ন হয়ে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা করতে লাগলো।

এখন ক্যাপ্টেনকেই একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে। কারণ তার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বাকিদের জীবীকা।

আর অন্যদিকে ক্যাপ্টেন নিজেও ঋণে জর্জরিত একজন। তাদের নৌকাটা অনেক বেশি পুরানো হওয়ার কারণে এখন আর আগের মতো মাছ ধরতেও সক্ষম হয়না তারা। এরই মধ্যে সে তার বাড়িতে গেলে দেখতে পায় তার স্ত্রী অন্য পুরুষের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করছে। আর এতে সে অনেক কষ্ট পাওয়ায় নৌকায় চলে আসে, এখন তার আপন বলতে আছে শুধু তার নৌকা আর ওইখানে কর্মরত মানুষগুলো। প্রচন্ড ঋণের মধ্যে থাকায় সবাই এই নৌকা বিক্রি করে দিতে বললেও ক্যাপ্টেন এতে রাজি হয়না।

অনেক বেশি ঋণ থাকায় ক্যাপ্টেন অনেক জায়গায় টাকা লোন নিতে চায় কিন্তু কেউ থাকে লোন দেয়না। লোন না পেলেও ক্যাপ্টেন একটা অফার পায় যার মাধ্যমে সে অনেক টাকা পাবে আর কাজটি হলো চীন থেকে কিছু অবৈধ অধিবাসী আসবে আর তাদের সমুদ্রপথে মাছ ধরা নৌকায় তুলে নিয়ে তাদের দক্ষিণ কোরিয়ায় ঢুকিয়ে দিতে হবে।

ক্যাপ্টেনের অনেক ঋণ থাকায় সে বেশি কিছু না ভেবেই এতে রাজি হয়ে যায়। ওই অবৈধ অধিবাসীদের জাহাজ থেকে তারা তাদের নৌকায় তুলে নেয়। অইখানের একেকজনের একেক স্টোরি ছিলো দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়া নিয়ে। একজন যাচ্ছিলো তার ভাইয়ের খুঁজে আরেকজন তার বিচ্ছিন্ন পরিবারের সাথে দেখা করতে। এমনি একেক জনের একেকটা স্যাড স্টোরি ছিলো দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়া নিয়ে।

ওই অধিবাসীদের মধ্যে একজন মেয়ে ছিলো যার সাথে ওই নৌকার একজন ক্রুর সাথে ভালো একটা সম্পর্ক তৈরি হয়। এমনকি ভালো সম্পর্ক থেকে হয়ে উঠে প্রেমের সম্পর্ক।

ওই অধিবাসীদের নৌকায় তুলার পর থেকে ঘটতে থাকে একের পর এক ঘটনা। তাদের তো কাউকে দেখতে দেওয়া যাবেনা, কেউ দেখে নিলেই বিপদ। পুরোপুরি সিক্রেটলি তাদের নিয়ে যেতে হবে। চলতে থাকে ওই নৌকায় অনেক সাসপেন্স এ ভরা কাহিনি।

হঠাৎ এক দূর্ঘটনায় ওই নৌকার সব অধীবাসীদের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে বেঁচে ছিলো শুধুমাত্র ওই মেয়েটি যার সাথে ওই নৌকার একজন ক্রুয়ের সম্পর্ক হয়ে উঠে।
সব অধীবাসীদের মৃত্যুর পর মেয়েটি তার জীবন নিয়েও সংশয়ে পড়ে যায়। ঘটতে থাকে ওই নৌকায় একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনা।

কি কারণে সব অধীবাসীদের মৃত্যু হয়? কেনইবা ওই মেয়ের জীবন নিয়ে সংশয় ছিলো নৌকার মধ্যে? কি ঘটেছিলো ওই নৌকায়? এইসব জানতে হলে আপনাকে অবশ্যই পুরো সিনেমাটি দেখতে হবে।

🎬 “হাওয়া” নিয়ে নিজের অনুভূতি 🤔

একটা জলপথ, সমুদ্রের জলপথ, একটা বোট। মাছ ধরছে জেলেরা,অনেক আনন্দ,জলের ঢেউয়ে এগিয়ে চলেছে বোট। ঢেউ আছড়ে পড়ছে বোটের গায়ে, দেখতে লাগে ভালো।
হাওয়া কিসের হাওয়া? একেবারে দুই রকমের হাওয়া, এক সামুদ্রিক হাওয়া দুই রহস্যের হাওয়া। একটা রহস্য শুরু হয়েছে। এর কিনারা কোথায়?
অন্য সব বোটে অনেক মাছ ধরা পড়ছে কিন্তু এ বোটে কেন ধরা পড়ছে না! তবে কী মাছেরা এ বোটের সাথে আড়ি পেতেছে নাকি অন্য কোনো কারণ আছে?

বোটের মধ্যে একটা নতুন হাওয়া লেগেছে। কোথাকার জল কোথায় গড়াচ্ছে কেউ বুঝতে পারছে না। একবার এই বিপদ তো ঐ বিপদ কিন্তু বিপদের কান্ডারি কে?
বোটের মালিকের মাথা গরম। একটা হেস্তনেস্ত করতেই হবে এবার। কিন্তু তাতে কি শাপে বর হবে নাকি শিরে সংক্রান্তি!

জলপথে কি প্রেম হয়? মানুষ যেহেতু বাস করে জলপথে প্রেম তো হতেই পারে। জল সাক্ষী, হাওয়া সাক্ষী, আকাশটা সাক্ষী কিন্তু প্রেমের ধরনটা কেমন? অন্যরকম।

Worth The Hype????
এখানে একটা বিশাল বড় প্রশ্নের সৃষ্টি করে “হাওয়া”। কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে উতরে যেতে পারবে কি না সেটা দর্শকরা ভালো জানেন। তবে আমার মতো দর্শক যারা আছেন তাঁরা প্রায় সার্বক্ষণিক স্ক্রিণে হা করে তাঁকিয়ে ছিল মুগ্ধতায়। সিনেমার সিনেমেটোগ্রাফার’কে আলাদা ভাবে ধন্যবাদ, এত সুন্দর ভিজ্যুয়াল, এত সুন্দর ক্যামেরার এঙ্গেল ফুটিয়ে তোলার জন্যে। স্ক্রিনপ্লে কিছুটা মন্থর প্রথম হাফ এ, কিন্তু গতিশীল হতে বেশি সময় নেয়নি। সিনেমার ডিরেকশন দেখে বোঝার উপায় নেই এটি “মেজবাউর সুমন” এর প্রথম বড় পর্দার ডিরেকশন। এখানে তিনি যথাযথ নিজের ক্যাপাবিলিটি প্রমাণ করেছেন।

অভিনয় প্রসংগেঃ-

সমুদ্রের জল জোয়ার-ভাটায় আচরণ করে থাকে। ভাটার পর জোয়ারের উত্তাল হাওয়া শুরু হলে যেমন ভয়ের কারণ থাকে বোটের ভেতরেও ভয়ের পরিবেশ আসতে থাকে। একটার পর একটা বদ হাওয়া, বোটের মালিকের ভাষায় ‘কালা জাদু’।
‘ভয় পাচ্ছিস?’ বোটের মালিকের কথায় বিপরীতে থাকা অভিনয়শিল্পীই কী ভয় পাচ্ছে, মনে তো হবে আপনিও ভয় পাচ্ছেন দর্শক। এই না হলে অভিনয়!
ছবির শেষটা কী ছিল মশাই? এ তো অলৌকিক হাওয়া। যা মাথায় আসবেই না কোনোভাবে সেই ঘটনা ঘটে গেল! যে হাস্যরসে ছবির অর্ধেকটাই মেতে থাকবে দর্শক শেষে এসে আচমকা ধাক্কায় নীরব করে দেবে। ছবির বাঁক তো এমনই হবার কথা।
গালি দেয় সবাই ছবিতে। আপত্তির কিছু নেই। যারা যেভাবে কথা বলে তারা তো সেভাবেই বলবে। ওটাই তাদের ভাষা।
অভিনয়! কেউ কারো থেকে কম না। কী চঞ্চল চৌধুরী, কী শরিফুল রাজ, কী নাজিফা তুষি, কী নাসির উদ্দিন, কী সোহেল মণ্ডল, কী সুমন আনোয়ার! সবাই নিজেদের জাত চেনাল। ছবি হয়ে গেল সম্মিলিত জাত অভিনয়ের।
ক্যামেরা! সূর্যরশ্মির সাথে সমুদ্রের জলের ওঠানামার তরঙ্গ, জোছনা রাতে সমুদ্রের কাব্যিকতা, জলের ভেতর তিমির অবগাহন সব খেলে বেড়াচ্ছে ছবি জুড়ে। আহা! যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা।
‘সাদা সাদা কালা কালা’ তো এখন জনগনের গান। ওটা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই।
মেজবাউর রহমান সুমন?
তিনি তো আরো আগেই এলে পারতেন চলচ্চিত্রে। এলেনই যখন চলচ্চিত্রের পালে নতুন হাওয়া নিয়েই এলেন। এ হাওয়া তার নিজস্ব।

অভিনয় নিয়ে আরেকটু স্পষ্ট করে বলতে হলে “চান মাঝী” র ক্যারেক্টার এ “চঞ্চল” দানবীয় কাজ দেখিয়েছেন। আমার মনে হয়না তাঁকে নিয়ে আলাদা ভাবে কথা বলার দরকার আছে। কিন্তু আমি যাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছি সেই “নাসিরউদ্দিন খান(নাগু)” আরো একবার সজরে বল বাউন্ডারি তে মেরেছেন। এই লোকটা আমাদের ইন্ড্রাস্ট্রির পিউর জেম, একদম যেন পানির মতন যেখানে রাখবেন সেখানেই নানান রূপ ধরবে। “ইব্রাহীম” চরিত্রে “শরিফুল রাজ” খুবই ভালো ছিলেন, “সোহেল মন্ডল, সুমন আনোয়ার আরো যারা সহশিল্পী ছিলেন প্রত্যেকে সিনেমার প্রাণ হিসেবে কাজ করেছেন। তবে Last but not the least “গুলতী” চরিত্রে নাজিফা তুষী অনবদ্য 🖤

লুকস, চাহনী সবকিছু দিয়ে আঁকড়ে ধরে রেখেছিল যখন যখন পর্দায় এসেছে। সব কিছু মিলে বাংলা ইন্ড্রাস্ট্রি তে আরোও একটি দারুণ কাজ। এই ফিল্মের জন্য মানুষ যেই উন্মাদনা দেখালো তা সামনে ভালো কিছুরই ইঙ্গিত দেয়।
তবে এটা অবশ্যই মাথায় রেখে যেতে হবে “হাওয়া” আর ৫ টা সিনেমার মতন আপনাকে বানিজ্যিক অনুভূতি দিবেনা কিন্তু যা পাবেন তা সবই “RAW”.

বিঃ- দ্রঃ- হাওয়া সিনেমার লিংক তো নেই,তবে হাওয়া সিনেমার গল্পের সাথে Sea Fog এর মিল আছে কি না? সেটা যাচাই করার জন্যে ” Sea Fog” দেখতে পারেন।

Sea Fog দেখতে চাইলে ভিজিট করুন “MoviesZoneBD.com”

Share

Post comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Go Top