00

নিজেদের সিনেমায় ভিন্নতা বা নতুনত্বের স্বাদ পেলে একটু বেশিই ভালো লাগে।
দেশীয় সিনেমার হাজারো দুর্বলতা, ব্যর্থতা রয়েছে আর সেগুলি জেনে-বুঝেই আমি বাংলা সিনেমাকে ভালবাসি। কারন ভাষাগত একটা আবেগ কাজ করে। আর সেই সাথে নিজেদের কৃষ্টি কালচারের একটা সমন্বয়।

আচ্ছা যাই হোক! আসলে সিনেমার রিভিউ- এর ক্ষেত্রে তাত্ত্বিক বিশ্লেষক হওয়ার চেয়ে বরং নিজের অনুভুতিটুকুকে প্রকাশ করতেই বেশী পছন্দ করি।

সিনেমা হলে আমি কখনো একটি সিনেমার দোষ-ত্রুটি গুলো খুঁজে খুঁজে বের করতে যাইনা। বরং সব দোষ-ত্রুটি এক পাশে রেখে আমি সিনেমাটাকে কিভাবে আবিষ্কার করি বা কতটুকু উপভোগ করি? সেটাই হয়ে উঠে মূখ্য বিষয়। তাই আমার রিভিউতে সিনেমার ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে বিশ্লেষক সাজার চেয়ে বরং মোটা দাগে সিনেমাটি উপভোগ্য, কী উপভোগ্য না, কিংবা সিনেমাটায় কী আছে, কী নেই,‌ সে সব বিষয় নিয়েই আমি বলে যাই।

আমার কাছে হাজারো দোষ-ত্রুটির পরেও একটা ছবি যে কোন বিশেষ কারনে হয়তো উপভোগ্য হয়ে উঠতে পারে, আবার অলমোস্ট ত্রুটিহীন কোন ছবিও বোরিং লাগতে পারে। আমি আমার সৎ অনুভুতিটুকু প্রকাশ করতেই পছন্দ করি।

Movie:- Shapludu
Genre:- Political Thriller
Released:-25/10/2019
Imdb:-7.6/10
Personal:- 08/10
Directed By:- Golam Sohrab Dodul
Staring:- Arifin Shuvo,Bidya Sinha Saha Mim,Zahid Hasan,Tarik Anam Khan,&Many More…

★মারতে হবে না হয় মরতে হবে” কিন্তু খেলতে হবে সবাইকে।

বলছি ২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলাদেশি সিনেমা “সাপলুডু” এর কথা।

সাপলুডু হচ্ছে একটা “পলিটিক্যাল থ্রীলার” জনরার সিনেমা। বর্তমান সময়ে সারাবিশ্বে থ্রীলার জনরার সিনেমা জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও বাংলাদেশের বানিজ্যিক ছবি এখনো একটা নোংরা ফ্রেমে আটকে আছে। বাংলাদেশী বানিজ্যিক সিনেমার ফরম্যাটটা পঁচে-গলে এমন কদাকার রুপ ধারণ করেছে যে, কেউ সেখান থেকে বেরিয়ে ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করলে আমরা তাকে এপ্রিশিয়েট করি। সিনেমার সার্বিক মান বিচারের চেয়েও মূখ্য হয়ে উঠে ফ্রেম ভেঙ্গে বাইরে আসার চেষ্টাটুকু।

আমরা স্বপ্ন দেখি, এভাবেই একটু একটু করে
বাংলাদেশের বানিজ্যিক সিনেমা পঁচে-গলে যাওয়া ফরম্যাট থেকে বেরিয়ে এসে একদিন ভালোমানের কিছু সিনেমার দেখা পাবো। আর তাই বহুল আলোচিত আয়নাবাজি, ঢাকা অ্যাটাক, পোড়ামন ২ কিংবা দেবীর মত ছবিগুলোর মান পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ না করেই ছবিগুলোকে আমরা সমর্থন করেছি। ছবিগুলোর ব্যাবসায়িক সাফল্যে আমরা নতুন একটা ধারায় বিশ্বাসী হতে শুরু করেছি। আর আমার মতে এই ধারারই নতুন সংযোজন গোলাম সোহরাব দোদুলের ”সাপলুডু”।

সাপলুডুর গল্পটা পুরোপুরিভাবে আলোচনা করতে চাচ্ছিনা বলে গল্পটা নিয়ে কিছু বলবো না। শুধু বলবো বাংলা বানিজ্যিক ছবিতে এই ধরনের গল্প অবশ্যই নতুনত্বের স্বাদ দিয়েছে। তার উপর সিনেমার প্রথমার্ধে গল্পকার একের পর এক টুইস্ট এন্ড টার্ন রেখে গল্প জমানোর চেষ্টা করে গেছেন। ছবির ন্যারেটিভ স্টাইলেও ভিন্নতা দেয়ার চেষ্টা ছিল। গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে নতুন ধারার ন্যারেটিভ স্টাইল, যেখানে কোন একটি গল্প ধরে এগিয়ে যাওয়ার চেয়ে ভিন্ন ভিন্ন ঘটনা এবং চরিত্রকে একসাথে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ছিল। সেক্ষেত্রে সিনেমার মূল গল্প থেকে ফোকাস এদিক সেদিক হয়েছে বটে, তবে এই ন্যারেটিভ স্টাইল দর্শকদের মধ্যে কিছুটা হলেও টেনশন ক্রিয়েট করতে সক্ষম, যা একটা থ্রীলারের জন্য প্রচুর সহায়ক।

বাংলাদেশের সিনেমার লেভেল বিবেচনায় ছবির গল্পকার বা চিত্রনাট্যকার যা দিয়েছেন সেটাই নেহায়েত কম না।বাংলাদেশের সিনেমার লেভেল কিছুটা হলেও উপরে নিয়ে আসতে পেরেছেন তারা। অন্তত ভিন্ন কিছু করার চেষ্টাটুকু চোখে পড়েছে। এখন সেইটুকু প্রাপ্তি নিয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলবেন নাকি অপ্রাপ্তির ঢালি নিয়ে বসে যাবেন সমালোচনা করতে সেটা একান্তই আপনার ব্যাক্তিগত ব্যাপার।
আমি আপাতত এইটুকু ভিন্নতাকেই এপ্রিশিয়েট করতে চাই। এভাবে একটু একটু করেই সামনে এগিয়ে চলুক আমাদের সিনেমা। তাতেই আমি খুশি।

*সাপলুডু নিয়ে যে ভয়টা ছিল তা হচ্ছে, ট্রেইলার দেখে এর সিনেমাটোগ্রাফী, কালার কারেকশন কিংবা অন্যান্য টেকনোলজির দিকগুলো নিয়ে সন্দেহ্‌ তৈরী হয়েছিল।
তবে আশার কথা হচ্ছে, সিনেমাটোগ্রাফী, কালার বা অন্যান্য দিকগুলো ভালই হয়েছে। ছবির লোকেশন ছিল এ ছবির সবচেয়ে বড় প্ল্যাস পয়েন্ট। ঘন জঙ্গলের দৃশ্য ছিল বেশীর ভাগ ছবি জুড়ে যা দেখতে সত্যিই দুর্দান্ত লেগেছে। এছাড়া ছোট ছোট কিছু পাসিং শট ছিল যা দারুণ লেগেছে।

সেক্ষেত্রে অন্তত এই দিকটা নিয়ে আমি নির্মাতার ভূয়সী প্রশংসা করবো। আগে দর্শনধারী, পরে গুণ বিচারী। ছবি যে দেখতে ভাল হয়েছে এটাই বা সচারচর বাংলাদেশের সিনেমায় পাওয়া যায় কোথায়?

কিছু অপ্রাপ্তির গল্প😔

★উক্ত সিনেমার অপ্রাপ্তির দিকগুলির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মিউজিক। গানগুলো তেমন ভাল হয়নি, আবার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও ভাল কিছু দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া টুকটাক প্লট হোল, মোবাইলে তোলা ফুটেজকে পরিস্কার ভাবে দেখানো (যদিও আজকালকার যুগে মোবাইল ক্যামেরার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, তবুও গ্রামের দোকানদারের মোবাইলে তোলা ফুটেজ এতো পরিস্কার দেখা গেলে সেটা হজম করা কষ্টকর😄) এবং সবচেয়ে বড় করে, দুর্বল ক্ল্যাইম্যাক্স এবং ছবিতে গভীরতার অভাব থাকায় ছবিটি পারফেক্ট বা নিয়ার পারফেক্ট কোন ছবি হতে পারেনি।

★ বাংলাদেশের সিনেমায় শিল্পীরা কেমন একটা নাটুকে ধারায় অভিনয় করে। মেথড এক্টিং সহজে পাওয়া যায় না। এ ছবিতেও সেই সমস্যা ছিল। রুনা খান, শতাব্দি ওয়াদুদ কিংবা ছোট ছোট চরিত্রের অভিনেতা এক্ষেত্রে ভাল করলেও প্রধান চরিত্রের অভিনেতাদের মধ্যে একটা মেকি ভাব ছিল। এই বিষয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের উন্নয়ন খুব জরুরী এখন।

★গল্পটা যেভাবে এগিয়ে যায় তাতে সব ঘটনা বা চরিত্রকে মূল ঘটনার সাথে সংযোগ করতে গিয়ে ছবির দ্বিতীয়ার্ধে খেই হারিয়েছেন গল্পকার। এছাড়া সিনেমার পুরো ন্যারেটিভ স্টাইল কিংবা সর্বশেষ ক্লাইম্যাক্স খুব বুদ্ধিদীপ্ত বা শক্তিশালী হয়নি। আরেকটু বুদ্ধিদীপ্ত ন্যারেটিভ স্টাইল কিংবা আরেকটু শক্তিশালী ক্লাইম্যাক্স হলে ছবি জমে ক্ষীর হতেই পারতো।

তবুও কী পাইনি তার চেয়েও জরুরী কী পেয়েছি? বাংলাদেশের সিনেমা এখন যে পর্যায়ে আছে, সেখানে দাঁড়িয়ে Inception কিংবা 3এদিওতস এর মতো সিনেমা প্রত্যাশা অন্তত আমি করতে পারছি না।

*কিন্তু এতো অপ্রাপ্তির পরও অন্য দশটা বাংলাদেশী সিনেমার মত প্রাপ্তির ঝুলি একেবারে শূন্য করে দেয়নি এটি। আর এখানেই “সাপলুডু” আমাকে তৃপ্তি দিয়েছে। ছবির চমৎকার লোকেশন, সুন্দর কাস্ট, একের পর এক টুইস্টে ভরা গল্প, ভিন্ন ধারার ন্যারেটিভ স্টাইল এবং সর্বোপরি ভাল কিছু করার সৎ চেষ্টা দেখে আমি ব্যাক্তিগতভাবে বেশ মুগ্ধ হয়েছি।
আমার কাছে সবমিলিয়ে এ ছবি ঢাকা অ্যাটাক কিংবা দেবীর মত ছবিগুলোর চেয়ে বেশী ভাল লেগেছে।অন্তত এ ছবিতে কোথাও বোর হওয়ার কোন সূযোগ রাখেননি নির্মাতা যা একটা বানিজ্যিক ছবির জন্য অনেক বড় বিষয়।

বিঃ- দ্রঃ- সাপলুডু এখন [Movieszonebd.com] এই ওয়েবসাইট এ পাওয়া যাচ্ছে। ভিজিট করুন এবং ডাউনলোড করে দেখে নিন।

Share

Post comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Go Top