00

Web Series:- Encrypted
Genre:- Crime/Thriller
Country:- India
Language:- Bangla
OTT:- Klikk

Encrypted এর প্রযোজনায় ছিলেন, রণিতা দাশ ও সৌপ্তিক চক্রবর্তী।
চিত্রনাট্য লিখেছেন রূদ্রাশিস রায়।
চিত্রগ্রহণে ছিলেন রিপন হোসেন।
সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন অম্লান চক্রবর্তী।
গেয়েছেন “ক্যাকটাস” নামক একটা ব্যান্ড।

আচ্ছা! ব্লু হোয়েল গেমের কথা আপনাদের কার কার মনে আছে? একটা সময় এই গেমে বুঁদ হয়ে অনেকের প্রাণ গিয়েছিল। অনেক কঠিন আর মারাত্বক কিছু টাস্ক পূরণ করতে হতো সেই এপ এর মাধ্যমে। বিনিময়? বিনিময়ে কিছুই পেতোনা, নিজের প্রাণটা যেতো শুধু😔

আমরা মনুষ্যজাতি প্রচুর আগ্রহী, যেকোনো কিছুর বিষয়ে জ্ঞানার্জন এর জন্যে কতকিছুই না করে থাকি। তবে কিছু ক্ষেত্র বিশেষে, সেসব আগ্রহটাই কাল হয়ে দাঁড়ায়।

★আচ্ছা চলুন আগে আমরা ব্লু হোয়েল গেমটা সম্পর্কে কিছুটা জেনে নেইঃ-

দি ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ ছিলো একটি অনলাইন ‘সুইসাইড গেম’ যেখানে টিনএজার বা কিশোর কিশোরীদের সামনে পঞ্চাশ দিনের পঞ্চাশটি খেলা দেয়া হতো।
আর এ চ্যালেঞ্জই বিশ্বজুড়ে অনেক মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

প্রথম টাস্কটি আসলে অনেকটাই নির্দোষ- ‘মধ্যরাতে জেগে উঠুন” বা “একটি ভীতিকর সিনেমা দেখুন।’
কিন্তু এরপর থেকে দিন দিন কাজগুলো ক্ষতিকর হয়ে উঠতে থাকে। যেমন ধরুন “আপনার বাহু কেটে একটি তিমির ছবি আঁকুন “।

আর শেষ চ্যালেঞ্জ?
এই খেলার শেষ চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নিজেকে খুন করা অর্থাৎ আত্মহত্যা🤦‍♂️

এই অনলাইন গেমটি রাশিয়া থেকে শুরু হয়েছিলো বলে অভিযোগ পাওয়া যায়, যেটি পরে ছড়িয়ে পড়ে ইউক্রেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রে।
তথাকথিত এই ‘সুইসাইড গেইম’ এর সঙ্গে শোনা যায় শত শত মৃত্যুর ঘটনা। কিন্তু অনুসন্ধানে যা বেরিয়ে এসেছে সেটি কিছুটা কৌতূহলোদ্দীপক।
খেলাটি প্রাথমিকভাবে যেভাবে ছিলো, মনে হচ্ছে পুরোপুরিভাবে সেভাবে আর থাকেনি।

★ব্লু হোয়েল এর পেছনের গল্প★

ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জের গল্পের সূচনা হয়েছিলো রিনা পালেনকোভার মাধ্যমে।

২০১৫ সালের ২২শে নভেম্বর রাশিয়ার দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের এই কিশোরী একটি সেলফি পোস্ট করেন।
এই ছবিতে তিনি খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়েছিলেন। নাকে মুখে কালো স্কার্ফ পেঁচানো ছিলো। তিনি তার মধ্যমা আঙ্গুল রেখেছিলেন ক্যামেরা বরাবর। মনে হচ্ছিলো এটা শুকনো রক্তে ঢাকা।

ফটোর ক্যাপশন ছিলো ‘বিদায়’। তার পরদিনই তিনি আত্মহত্যা করেন।
বিষয়টা আলোচনায় উঠে আসে রাশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে।
কিছু নির্দিষ্ট গ্রুপে এটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। চ্যাটরুমগুলোতে আলোচনা হয় স্কুল বা বন্ধুদের সাথে নানা ঘটনা নিয়ে কিংবা হতাশা, একাকীত্ব বা আত্মহত্যার মতো কিছু নেতিবাচক বিষয় নিয়েও।

নানা ভীতিকর গল্প বিনিময় হতে শুরু করে।
রিনা পালেনকোভার ঘটনাও সেখানে আলোচিত হতে থাকে এবং কেউ কেউ তার প্রশংসাও করে জীবন এভাবে শেষ করার জন্য।

পাশাপাশি কিছু সত্যি ঘটনার ভিত্তিতে হরর সিনেমার মতো নানা কাহিনীও সেখানে আলোচিত হতে থাকে।
কিন্তু মজার বিষয় হলো কেউই আসলে জানতো না যে আসল ঘটনাটি কী, বলছিলেন ড্যারিয়া রাডশেঙ্কো, যিনি রাশিয়ান একাডেমি অফ ন্যাশনাল ইকোনমি ও পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের গবেষক।
তিনি কথিত ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জের বিষয়টির দিকে দৃষ্টি রাখছিলেন।

কিছুদিন পরই রিনার গল্পের মধ্যে ঢুকে যেতে থাকে একই ধরনের আরও অনেক গল্প।
২০১৫ সালের ক্রিসমাস ডে’তে বার বছর বয়সী ড্যাভিডোভা আত্মহত্যা করে। এরপর ডায়ানা কুজনেতসোভা।

কিন্তু যখন তাদের অনলাইন অ্যাকাউন্ট অভিভাবকরা পরীক্ষা করেন তখন তারা একটি বিষয় আবিষ্কার করেন- তা হলো দুটি মেয়েই একই ধরনের অনলাইন গ্রুপে সংযুক্ত ছিলো।
আর এসব গ্রুপে ছিলো আত্মহত্যা নিয়ে রিনা পালেনকোভার ড্রয়িং, পোস্ট আর অসংখ্যবার উল্লেখ করা হয়েছে ব্লু হোয়েল বা নীল তিমির কথা।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত “ব্লু হোয়েল” গেম খেলে প্রায় ১৩০ জনের মতো মানুষের প্রাণ গিয়েছে। সংখ্যাটা কম বেশি হতে পারে।

আচ্ছা! তো এখন আসি Encrypted নামক সেই ওয়েব সিরিজটার ব্যাপারে!

Encrypted এর গল্প পুরোটা এরকম না হলেও, ব্লু হোয়েল এর সাথে কিছুটা সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।

★Encypted নিয়ে কিছু কথা★

উক্ত সিরিজের সৃজনশীল পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সৌপ্তিকের দীর্ঘদিনের গার্লফ্রেন্ড অভিনেত্রী রণিতা দাশ। শুধু তাই নয়, সিরিজে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ও করছেন রণিতা।

এনক্রিপটেড’-এ মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছেন পায়েল সরকার, ঐশ্বর্য সেন। এছাড়াও রয়েছেন রিচা শর্মা, রানা বসু ঠাকুর, অমিতাভ আচার্য, অর্পিতা দাস, রানা মুখোপাধ্যায়, সূর্যেন্দ্র বাগচী,ইন্দ্রনীল দে,সানু সোমনাথ সহ আরো অনেকে।

🚨স্পয়লার এলার্ট🚨

★দিয়া ও তানিয়া- দুই বোনের জীবনকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত ‘এনক্রিপটেড’ এর মূল গল্প। চিত্রনাট্য অনুযায়ী, প্রেমে ব্যর্থ হয়ে তানিয়া মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে এবং এই আসক্তির কারণে তার প্রচুর অর্থব্যয় হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তানিয়া আর্থিক অনটনের শিকার হয়ে খুব সহজে টাকা আয়ের উৎস খুঁজতে থাকে।

ঠিক এই সময়ে একটি আইটি কোম্পানির
‘ডার্ক ডেয়ার’ নামক একটি অ্যাপ্লিকেশন তানিয়ার হাতে এসে পরে। এই অ্যাপটি ব্যবহারকারিকে কিছু সাহসী টাস্ক করার নির্দেশ দেয়, যা করতে পারলে ব্যবহারকারী একটি নির্দিষ্ট অর্থ লাভ করে। তানিয়া নিজের মাদকের খরচ তুলতে এই অ্যাপের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং কিছু সাহসী টাস্ক পূরণ করে ফেলে।
এবং সেই তালিকায় রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর খুনের মতো ঘটনাও। ফলস্বরূপ গ্রেফতার হয়ে পুলিশি হেফাজতে থাকতে হয় তানিয়াকে। তার ওপর মাত্রাতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার হলে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। ঠিক এই জায়গা থেকেই গল্পের মোড় নেয়।

তারপর বোনের রহস্য মৃত্যুর কারণ খুঁজতে শহরে উপস্থিত হয়, তানিয়ার বোন দিয়া। ঘটনাচক্রে দিয়ার আলাপ হয় তদন্তকারী অফিসার এসিপি হেমা সিং ও রিপোর্টার সোহাগের সঙ্গে। দিয়া তাদের কাছ থেকে জানতে পারে এই ডার্ক ডেয়ার অ্যাপটি কীভাবে তার বোনের মতো অনেক যুবক যুবতীকে অন্ধকার পথে ঠেলে দিচ্ছে।
বিভিন্ন তথ্য থেকে “দিয়া” নিশ্চিত হয় যে, তার বোন একটি ঘৃণ্য চক্রান্তের শিকার হয়েছে। বোনের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর হয়ে ওঠে “দিয়া”। সে নিজেই প্ল্যান করে এই চক্রান্তের পর্দা ফাঁস করতে ময়দানে নামে।

আর তারপর একে একে সব রহস্যের জট খুলতে থাকে। মাত্রাতিরিক্ত এই ওয়েব সিরিজটি দেখার সময় আপনাকে সেই ব্লু হোয়েল এর কথা মনে করিয়ে দিবে। এটা ভেবে ভালো লাগবে যে.. এই সিরিজের মাধ্যমে পর্দায় ” ব্লু হোয়েল” এর সেই নির্মম কিছু ছায়া দেখতে পারছেন।

বিঃদ্রঃ-Encrypted ডাউনলোড করুন MoviesZoneBD.com থেকে।

#HappyWatching
#MoviesZoneBD

Share

Post comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Go Top