00

আপনি জানেন কি সাম্প্রদায়ীকতা ছড়ায় কারা?
-ভিন্ন মতালম্বীদের সব সময় শত্রু মনে করে কারা?
-ভিন্ন মত / ভিন্ন গোষ্ঠিকে সহ্য করতে পারে না কারা?
-নিজেদের যে কোন দূরাবস্তার জন্য ভিন্ন গোষ্ঠি ( ইহুদী নাসাড়া, ভারত,আমেরিকা,ইজরাইল) কে দায়ী করে কারা?
সচেতন মানুষ মাত্রই এসব প্রশ্নের উত্তর জানেন কিন্তু বিভিন্ন কারণে প্রকাশ করতে পারেন না মনে এক ধরণের ভীতি কাজ করে।

একজন নাস্তিক মনে করে যে,শুধুমাত্র ইসলাম ও মুসলীমরাই নাকি এমন অসাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে থাকে🤷‍♂️

মানে তারা কি কোনো ধর্ম বিশ্লেষণ না করেই যেকোনো বিষয় নিয়ে লিখে ফেলে? এবং এদেরকেই বলা হয় So Called মুক্তমনা মানুষ 🤣

১৯৭০-৮০ এর দশকের একটা ঘটনা…
আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে ঘটে গেলো অপ্রীতিকর একটা ঘটনা।

একজন শ্বেতাঙ্গ শিশু রাস্তা দিয়ে হাটতেছে,কিছুক্ষণ পর চোখে পরলো তারই মতো চেহারা,শারিরীক গঠন,চোখ,নাক, মুখ দেখতে প্রায় একই😱
এমন অনেক লোকজন তার আশেপাশে হাটতেছে। সে এটা দেখে অনেক চিন্তিত হয়ে পরলো🤔

ব্যাপারটা কি? এটা কিভাবে সম্ভব?

তার কিছুদিন পর জানা গেলো যে… সেই শহরের একজন শ্বেতাঙ্গ খ্রিস্টান ডক্টর তার নিজের স্পার্ম শহরের বিভিন্ন জায়গার মহিলাদের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দিয়েছে। যে সমস্ত স্বামীরা বাচ্চা জন্ম দিতে অক্ষম,তাদের স্ত্রীদের গর্ভে কৃত্রিম পদ্ধতিতে সেই ডাক্তারে স্পার্ম ঢুকিয়ে দিতো।

যারা Vicky Donner মুভিটা দেখেছেন,তারা জানবেন যে.. যে কেউ স্পার্ম ডোনেট করতে পারবে না। যেসমস্ত পুরুষদের রক্তে বা শারিরীক কোনো সমস্যা থাকে,সেসমস্ত পুরুষগণ
স্পার্ম ডোনেট করতে পারবেনা। তাহলে উক্ত শিশুটিরও সেই সমস্যায় ভুগতে হবে।

কিন্তু সেই ডাক্তার যার নাম ছিলো Donald Cline

তার মূল উদ্দেশ্য ছিলো,পুরো বিশ্বে খ্রিস্টানদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি করে পুরো পৃথিবীতে খ্রিস্টানদের আধিপত্য বিস্তার করতে। সে মনে করতো যে.. মুসলীমরা সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা বৃদ্ধি করে কোনোপ্রকার যুদ্ধ বিগ্রহ ছাড়াই পুরো বিশ্বে তাদের অবস্থানের জানান দিচ্ছে।

১৯৮০ এর দশকে একটা মুভমেন্ট এর সূচনা হয়,যেটার নাম Quiverfull Movement.
হিব্রু বাইবেল থেকে এই মুভমেন্ট এর নামকরণ করা হয়েছিলো। তারা একজন শিশুকে ইশ্বরের পক্ষ থেকে একটা আশির্বাদ স্বরূপ মনে করতো। আবার সেই শিশুকে তাদের বাবা মা “তীর বা ধনুকের ন্যায় মনে করতো” তারা মনে করতো যে.. তাদের শত্রুদেরকে সেই শিশুরা ধনুকের ন্যায় প্রতিহত করবে।

সেই Quiverfull Movement এর সদস্যগণ মনে করতো যে.. আমরা জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করবো না। কারণ এটা ইশ্বর প্রদত্ত দানকে অস্বীকার করা হবে,ইশ্বরের প্ল্যানকে বিনষ্ট করা হবে।

১৯৮৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন লেখিকা Marry Pride
একটা বই প্রকাশ করেন, যেটার নাম
“The Way Home” Beyond Feminism Back To Reality.

যেটাতে তিনি লিখেন যে… Quiverfull Movement এর সদস্যরা মনে করতেন যে.. নারীরা পৃথিবীতে আসছেই নাকি শুধুমাত্র বাচ্চা জন্ম দেওয়ার জন্যে। নারীদের গঠন প্রণালী সৃষ্টিই করা হয়েছে বাচ্চা জন্ম দেওয়ার জন্যে। সেই সোসাইটির সদস্যগণের মতে.. নারীদের কোনো ব্যাংক একাউন্ট থাকতে পারবেনা। তারা ব্যাংক একাউন্ট খুলতে চাইলেও স্বামীর কাছ থেকে পারমিশন নিতে হবে।

নারীরা তার স্বামীর অবাধ্য হওয়া তো দূরের কথা.. স্ত্রী সংঘমের জন্যে সর্বদা Available থাকতে হবে তার অনিচ্ছাস্বত্বেও। যার কারণে তখনকার সময়ে Maritial Rape ব্যাপক পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছিলো।

আরেকজন লেখিকা যার নাম, Nancy Campbell
তিনিও মনে করতেন যে… মহিলাদের যেই গর্ভ আছে,সেইটা শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্যে একটা অস্ত্রস্বরূপ।

এই Quiverful Movement এর সাথে Sexual Assault খুব বেশি পরিমাণে জড়িত। Phillips,

যিনি এই মুভমেন্ট এর লিডার, তিনি ২০১৩ সালে একটা কন্ট্রোভার্সিতে জড়ান। ১৯৯৯ সালে এক নারী তার সাথে দেখা করেন,তারপর ২০০৭ সালে ফিলিপস সেই নারীকে তার বাসায় নিয়ে যেয়ে তার সাথে সেক্সুয়াল সম্পর্ক স্থাপন করার জন্যে অনেক চেষ্টা করেন। সেই নারী তাতে সম্মত না হলে.. সেই নারীকে সামনে রেখে “Masturbate” করতো। চিন্তা করে দেখেন, কত নিচু মন মানসীকতাসম্পন্ন একটা কাজ!

আচ্ছা! জন্মনিয়ন্ত্রণ বা জন্মবিরতিকরণ নিয়ে এত কথা হচ্ছে কেনো জানেন?
একটা এনালাইসিস এ দেখা গিয়েছে যে… জন্মনিয়ন্ত্রণ না করলে.. অনেক বেশি পরিমাণে কার্বনডাইঅক্সাইড নিঃসরণ হয়। আর সেটা যদি হয় ধনী দেশগুলিতে? তাহলে গরীব দেশগুলির তুলনায় ধনী দেশগুলিতে তার পরিমাণ প্রায় অর্ধেক বেশি।
ধনী দেশগুলিতে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি না মানলে ৪৯% “কার্বনডাইঅক্সাইড” নিঃসরণ হবে। মনে রাখবেন পৃথিবীতে ধনী দেশের পরিমাণ মাত্র ১০% আর সেই ১০% ধনী দেশগুলির পক্ষ থেকেই ৪৯%
“কার্বন ডাইঅক্সাইড” নিঃসরণ হয়ে থাকে। ধনী দেশগুলির মধ্যে “যুক্তরাষ্ট্র” যুক্তরাজ্য” এর মতো দেশগুলিতে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি মেনে চলাটা অতীব জরুরী, অন্যান্য দেশের তুলনায়। কারণ Wealthy মানুষগুলাই সবচেয়ে বেশি “কার্বনডাইঅক্সাইড” নিঃসরণ করে যেটা পরিবেশ দূষণে ব্যাপক একটা ভূমিকা পালন করে।

কেনো যে কেউ স্পার্ম ডোনেট করতে পারবেনা?
এর তিনটা মূল কারণ রয়েছেঃ-

১.স্পার্ম ডোনেট এর ফলে যে সমস্ত বাচ্চা জন্ম নিবে.. তারা তো জানবেনা যে তার Half Brother বা Half Sister কে? পরবর্তীতে যদি বাচ্চাটি বড় হওয়ার পর তার হাফ ভাই বা বোনের সাথে শারিরীক সম্পর্কে জড়িয়ে পরে,তাহলে ব্যাপারটা খুবই Awkward. আবার আর এর ফলে তাদের অনেকেরই জেনেটিক রোগ হওয়ার সম্ভাবণা থাকে।

২.যেমনটা প্রথমেই বললাম যে.. যারা ভিকি ডোনার দেখেছেন তারা এই ব্যাপারটা খুব ভালো করেই জানবেন যে.. যে কেউ স্পার্ম ডোনেট করতে পারবেনা। স্পার্ম ডোনেট করতে হলে,উক্ত ব্যাক্তি অবশ্যই পরিপূর্ণ সুস্থ্য থাকতে হয়। কোনো প্রকার রোগ বালাই থাকা যাবেনা। রক্তে যদি কোনোপ্রকার সমস্যা থাকে,সেই বাচ্চাটির উপরও পরবে। যেই রোগটি চিরস্থায়ী সেই বাচ্চাটি বয়ে বেড়াতে হবে। আগে যে বলেছিলাম সেই ডাক্তার “Donald Cline” এর কথা, তার কোনো যোগ্যতাই নাই স্পার্ম ডোনেট করার। সে নিজেই
Auto immune Disease এ ভুগতেছিলো। যার ফলে তার স্পার্ম থেকে জন্ম নেওয়া অনেক বাচ্চারাই Auto Immune Disease এ ভোগতে হয়েছিলো।

যেটা খুবই খারাপ একটা কাজ হইছে।

৩.আপনি যেই নারীর মধ্যে নিজের শুক্রাণু প্রবেশ করাবেন,সেই নারীর অবশ্যই সম্মতি থাকা লাগবে। অন্যথায় এটাও একধরনের “Rape” এর মধ্যে পরবে। আর এই ঘটনার পর ২০১৮ সালে Indiana তে ব্যাপক পরিমাণে আন্দোলন করা হয়। এবং
তারপর Rape Law তে অনেকটা পরিবর্তন আনা হয়েছিলো।

তো বুঝতেই পারতেছেন, ঘটনাটা কি পরিমাণে সেন্সিটিভ!
পুরো ঘটনাটি আরো ভালোভাবে জানতে এবং বুঝতে হলে আপনাকে অবশ্যই অবশ্যই নেটফ্লিক্স এ মুক্তি পাওয়া সেই ডকো ফিল্ম ” Our Father ” টি দেখতে হবে। আমার পক্ষ থেকে Highly Recommended একটা ডকো ফিল্ম।

অনেকই তো ডকো সিরিজ দেখেছেন, House Of Secret,Justine Beiber,9/11,Mark Zuckerberg, এমন আরো অনেক ডকো সিরিজ রয়েছে যেগুলিকে সময়ের সাথে সাথে মানুষ ভুলে যায়। কিন্তু
Our Father এর মতো ডকো ফিল্ম শতাব্দীতে একটাই আসে,এবং এগুলিকে চিরজীবণই মানুষ মনে রাখতে বাধ্য থাকবে।

বিঃ দ্রঃ- এই পোস্ট এর প্রায় বেশিরভাগ ইনফোই Youtube Chanel “Enayet Chaudhury” এর Explanation Video ”
“যে আন্দোলন খ্রিস্টান শিশুর জন্ম বাড়াচ্ছে” থেকে নেওয়া হয়েছে। এই সম্পর্কে আরো ভালোভাবে বুঝতে হলে উক্ত ভিডিওটি দেখে আসতে পারেন।

আর “Our Father” ডাউনলোড করুন আমাদের ওয়েবসাইট “MoviesZoneBD.Com” থেকে!

Share

Post comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Go Top