01

 

কিছুদিন পর পরই ভিন্নধর্মী কনটেন্ট নিয়ে আমাদের মাঝে হাজির হচ্ছেন সময়ের আলোচিত এবং জনপ্রিয় নির্মাতা রায়হান রাফি।
বিশেষ করে করোনার প্রকোট উপেক্ষা করে এসমস্ত নির্মানগুলিকে সফলতার মুখ দেখানোটা যেনোতেনো ব্যাপার নয়। এই পরিস্থিতিতে যখন আমাদের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি কিছুটা থমকেই আছে বলা যায়, সেখানে ওটিটির কল্যানে রায়হান রাফি আমাদের উপহার দিয়েছেন ‘জানোয়ার’ ‘অক্সিজেন’
দি ডার্ক সাইড অব ঢাকা, “খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’র মতো মাস্টারপিস কিছু কনটেন্ট। এরই ধারাবাহিকতায় এবার রায়হান রাফি নিয়ে এসেছেন তার নতুন ওয়েবফিল্ম ‘টান’।

প্রথমেই আমাদের সারপ্রাইজ দিয়েছেন রাফি এই ওয়েবফিল্মে সিয়াম আহমেদের সাথে চিত্রনায়িকা শবনম বুবলীকে কাস্ট করে।
রোমান্টিক এবং সাসপেন্স ঘরানার এই ওয়েব ফিল্মে অবনী চরিত্রে অভিনয় করেছেন সময়ের আলোচিত নায়িকা “বুবলী”।

বুবলীর বিপরীতে সিয়ামকে দেখা গিয়েছে রাশেদ চরিত্রে। হৃদয়ের টানে পালিয়ে যাওয়া অবনী-রাশেদের সুখ-দুঃখের প্রেম বাস্তবতায় হঠাৎ ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এগিয়ে যায় এই ওয়েবফিল্মের গল্প। সাথে আছেন সময়ের অন্যতম গুনী অভিনেতা সোহেল মন্ডল এবং নীলাঞ্জনা নীলা।

বানিজ্যিক সিনেমার নায়িকা হিসেবে যে বুবলীকে দেখে আমরা অভ্যস্ত, ওটিটির কল্যাণে সেই বুবলীই যেনো খোলস ছেড়ে চরিত্রনুযায়ী সাধারণ এক তরুনীরুপে দেখা দিলেন বুবলী।
চকচকে পোষাক, অতিরিক্ত মেকাপ ছেড়ে হিজাব পড়া আর দশজন রাস্তায় দেখা সাধারণ তরুনী রূপে এই ওয়েবফিল্মের মূল আকর্ষণ বুবলী।

বুবলীর সাথে বখাটে নেশাগ্রস্ত এবং পাগলাটে প্রেমিকের চরিত্রে সিয়াম এর Unexpected ম্যাজিকও মুগ্ধ করেছে দর্শকমহলকে।
সিনেমা/সিরিজ বা ওয়েবফিল্ম যাই হোক না কেনো অভিনেতা সিয়াম আহমেদ প্রতিবারই ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে প্রতিনিয়ত নতুনভাবে হাজির করার যে প্রয়াস এবং পরিশ্রমে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন তা প্রশংসার দাবিদার। নির্মাতা রায়হান রাফি ” টান” নিয়ে কথা বলার সময় সবাইকে জানিয়েছেন যে এই ওয়েবফিল্ম পুরোপুরি সিনেমার স্বাদই দিতে যাচ্ছে।
এবং একজন সিনেপ্রেমী হিসেবে আমার নিকট সেটাই মনে হয়েছে।

★হালকা স্পয়লার★

সিনেমার জনরা হিসেবে ‘রোমান্টিক ড্রামা’ লেখা হলেও এরসঙ্গে জড়িয়ে আছে কিছু লেনদেনের ব্যাপার। অর্থাৎ শোধ কিংবা প্রতিশোধ।
ওয়েব ফিল্মটি শুরুই হয় শেষের গল্প দিয়ে।
দেখা যায়, শবনম বুবলি অভিনীত চরিত্র অবনি একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির হামলার শিকার হন। ঘরে একা থাকা অবস্থায় দরজায় কড়া নাড়ে কেউ একজন। তাকে দেখা না গেলেও, মুহুর্তেই অবনির উপর আক্রমন করতে দেখা যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে যখন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ততক্ষণে উপস্থিত রাশেদের সঙ্গে তার সম্পর্কও দর্শক বুঝতে পারে।
অপারেশন থিয়েটারে ঢোকার পরপরই গল্পকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বেশ অনেক আগে, ঠিক যতটুকু আগে থেকে দেখালে বেরিয়ে আসবে এই হামলার গল্প।

ধীরে ধীরে দেখা যায় রাশেদ ও অবনির প্রেম,প্রণয়ের সময়কার গল্প।
খানিকটা টানাপোড়েন ও দুঃখ উভয় পক্ষের মধ্যেই বিদ্যমান।
অবনি তার বোনের পরিবারে থাকতে গিয়ে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়,প্রতিনিয়ত নিজের অবস্থান নিয়ে এরকম কথাবার্তা শুনতে শুনতে একদিন বোনের বাসা থেকে বেরিয়ে আসে।

তখন খানিকটা আকস্মিক ভাবেই রাশেদ ও অবনির বিয়ে হয়। বা বিয়ে করতে তারা বাধ্য হয়।
কিন্তু তারপরই ঘুরে যায় গল্প।
চেনা রাশেদকেই বারবার আবিস্কার করে ক্লান্ত হতে হয় অবনিকে।
প্রণয়ের সময়কার দুঃখবোধ ও টানাপোড়েনকে ছাপিয়ে এই সংসার যেন বিষাক্ত হয়ে ওঠে।
সেটির বিস্তারিত কারণ ও দৃশ্যপটগুলো সিনেমায় ভালোভাবেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
তবে একদিন, হামলার শিকার হয় অবনি। কিন্তু কেন?
এবং এই হামলার পরই উপকারী বন্ধু হিসেবে হাজির হয় আরেকজন (সোহেল মন্ডল)। কিন্তু তখন এই চেনা সংসারকে আড়াল করে সামনে আসে এমন এক অতীত, যার মুখোমুখি হতে চায়নি কেউই!

এতক্ষণ যা বললাম,এটা পুরো সিনেমার একটা ঝলকমাত্র। পুরো গল্পের থ্রিল নিতে হলে দেখতে হবে রায়হান রাফির এই অনবদ্য কাজ “টান”
টান সিনেমা তো আমাকে খুব ভালোভাবেই টেনেছে।
এখন আপনাদের কি হবে? সেটাও জানার অপেক্ষায় রইলাম।

#Happywatching😊🎬

Share

1 comment

  1. July 28, 2022 at 7:06 pm
    Noman Ahmad

    Nice

Post comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Go Top