00

 

যেই সিনেমা হলে ‘RRR’ দেখানো হবে সেই সিনেমাহল পুড়িয়ে দেওয়া হবে’, ১০ নভেম্বর ২০২০ এ এমনই একটা হুমকি দিয়েছিলেন বিজেপি নেতা “বান্দি সঞ্জয় কুমার”

আলোচনার সূত্রপাত হয় মূলত টিজারটি প্রকাশ্যে আসার পর। উনার মন্তব্য হচ্ছে.. আদিবাসী নেতার পরনে মুসলিম পোশাক কেন? কেন তাঁর চোখে সুরমা আর মাথায় ফেজ টুপি? তা নিয়েই প্রকাশ্য জনসভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বান্দি সঞ্জয় কুমার।

এটা তো অনেক আগের কথা। আর এখন তো পুরো সিনেমাই দেখা হয়ে গেলো,কিন্তু সমালোচনামূলক তেমন কোনো সীন-ই চোখে পরেনি।

আসলে এখানে প্রথম কথাটা উল্ল্যেখ করার কারণ হচ্ছে, বিজেপি নেতারা আসলে কি? মানে মুসলিম, ইসলাম,এগুলি ছাড়া তাদের আর কি কোনো Subject নেই?🤷‍♂️

আচ্ছা যাই হোক,তাদের সম্পর্কে গুণগান গেয়ে শেষ করা যাবেনা😅। তো সেগুলি বলেও কোনো লাভ নেই। আচ্ছা এখন বলে দেওয়া ভালো, যারা এখনো RRR দেখেন নি,তারা ইনবক্সে নক দিতে পারেন। যথাসাধ্য চেষ্টা করবো দেখানোর ব্যবস্থা করে দিতে😊

তো চলুন এখন পুরো সিনেমা নিয়ে কিছু কথা বলা যাক,

তার আগে উক্ত সিনেমার কিছু তথ্য শেয়ার করে নেই।

★RRR’ হলো ভারতীয় সিনেমা ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেটের সিনেমা। বিগ বাজেটের এই সিনেমাটির শুধু নির্মাণ ব্যয়ই ৩০০ কোটি রুপি। তাও কলাকুশলীদের পারিশ্রমিক ব্যাতিতই।

★সিনেমার বাজেট যেমন হিউজ, উক্ত সিনেমা রলিজের আগেই এটির হল স্বত্ব, ডিজিটাল ও মিউজিক রাইট দিয়ে অনেক আগেই প্রোডিউসারগণ লাভের মুখ দেখে ফেলেছেন।

★ RRR সিনেমার মধ্য দিয়ে এই প্রথমবার, জুনিয়র এনটিআর ও রাম চরণ একসঙ্গে একটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন।

★আলিয়া ভাট এবং অজয় দেবগন এক সাথে এই প্রথমবার কোনো তেলেগু সিনেমায় কাজ করলেন।

‘রাইজ রোর রিভল্ট’, সংক্ষেপ এ RRR

২০১৭ তে মুক্তি পেলো Bahubali The Conclusion

দীর্ঘ ৫ বছর অতিবাহিত হয়ে গেলো। কিন্তু এস এস রাজামৌলির আর কোনো কাজের দেখা পেলোনা সিনেমাপ্রেমীগণ। কিন্তু তারও একটা বিশেষ কারণ হচ্ছে এই “RRR”। আসলে তিনি যেনো তেনো কাজে হাত দেন না। বিগ বাজেট,হিউজ দর্শকপ্রেমী সেলিব্রিটিগণ,আর ব্যাপক আয়োজন নিয়েই তিনি কাজ করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। আর সেটা উনার সাথেই যায়।

দক্ষিণের দমকা হাওয়া আর সেই সাথে রয়েছে আরব সাগরের ঢেউ।
Jr NTR এবং Ram Charan-এর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন আলিয়া ভাট । রয়েছেন অজয় দেবগণও।

তবে এতেই কি সিনেমা হিট হয়ে যাবে? উত্তরটা হলো না।
আসলে তিনি এই ধ্যান ধারণা নিয়ে চলেন না।
আর এটাই তাকে সবার থেকে আলাদা করে রাখে।
তিনি সর্বদাই ব্যাপক জোর দেন সিনেমার কনটেন্টে, সিনেমার মান নির্ণয় এ, মনোনিবেশ করেন ভালো একটা কাজ উপহার দিতে। একটা কমপ্লিট প্যাকেজ যাকে বলে।

প্রেক্ষাপটঃ-
১৯২০-এর দিল্লি। চরিত্রের রামারাজুকে ” রামচরণ” একদিকে যেমন ব্রিটিশ পুলিশ সম্মান করে তদ্রুপ ভয়ও পায় প্রচুর। আবার সেই রামারাজুকেই নেটিভ হওয়ার জন্য মাঝে মধ্যে হেয়ও করা হয়।

অন্যদিকে গোন্ড সম্প্রদায়ের সহজ সরল একজন যোদ্ধা ভীম “এন টি আর” যার দুই বাহুতে ভীমের মতোই প্রচুর শক্তি। তবে সেই শক্তি বা বল সে যখন তখন ব্যবহার করে না।

ভীম দিল্লিতে আসে মাল্লীকে “মানে একটা মেয়ে যাকে ভীম এর গ্রাম থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে আসা হয়” লেডি স্কটের হাত থেকে মাল্লীকে উদ্ধার করার জন্য ভীম দিল্লিতে আসে।
এতক্ষণ যা বললাম,আসলে এটাই কি সিনেমার গল্প? না। এটা তো সবেমাত্র সিনেমার ১ চতুর্থাংশ। পিকচার আভি বাকি হ্যা মেরে দোস্ত😎

মূলত এখানে নিজেদের অধিকার আদায়ে পুরো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সাথে সশস্ত্র লড়াইকেই দেখানো হয়েছে।
তবে হ্যাঁ, সিনেমা যেহেতু এস এস রাজামৌলির তাই পদে পদে সারপ্রাইজড আপনি হবেনই এটা মাস্ট শিউর।

Share

Post comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Go Top