02

একটা মন খারাপের বিকেলে কিছুটা আলগা ভালো লাগা কোথাও যেন মিশে থাকে। আর দুটি আলাদা প্রবৃত্তিকে একাত্ম করতে পারে একমাত্র কিছু চেনা আবেগ। সেই আবেগের প্রতিটি পরত যেন নিজের মত করে সাজিয়েছেন পরিচালক সুজিত সরকার।

বলছি… 2018 সালে মুক্তি পাওয়া বলিউড সিনেমা October এর কথা।

‘অক্টোবর’-দেখতে দেখতে মনে হল যেন একটা কবিতার শরীর দেখতে পাচ্ছি।
সেই শরীর মৃত্যু-মায়া আর নৈঃশব্দের প্রেম গন্ধ ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে স্কীন জুড়ে।

সিনেমার গল্প কি বলে জানেন? প্রকৃতি নিয়ে এক আকিঞ্চন খেলা খেলে দর্শকদেরকে সমালোচনার একঘেয়েমি ধারা থেকে মুক্তি দিতে চাই।
সিনেমার প্রধান চরিত্র হচ্ছে “শিউলি”
কম সময়ের জন্য ফুটে ওঠা এই ফুল, থেকে থেকেই সুজিতের ছবিতে বিদায়ের সুর লাগায়। আসলে সে কি ফিরে আসে?

অনেক প্রেম এরকম থাকে, যার পরিণতিতে আবেগটাই ফুরিয়ে যায়, আর তা পরিণতি না পেলে অনন্তের পথ ধরে চলতে থাকে একটা অগাধ ভালোলাগা। … ভালোলাগা থেকে ভালোবাসার সফর নিয়েই ছবি ‘অক্টোবর’।

ছবির একটা সংলাপেই রয়েছে, শিউলি ফুলের অস্তিত্ব ক্ষণিকের ৷ অক্টোবর মাসে গাছ ভরে ফুল আসে, আর ভোর হতেই সব ফুল মাটিতে লুটিয়ে পরে৷ তাই তো শিউলি-র আরেক নাম ‘ফাউন্টেন অফ ফ্লাওয়ার’ ৷ সুজিত সরকার বাঙালির অতি পরিচিত, অতি প্রিয় ফুলকে যে এভাবে এক অপুর্ণ ভালোবাসার গল্পের সঙ্গে মিশিয়ে দেবেন, তা ‘অক্টোবর’ ছবি তৈরি না হলে বোঝা সম্ভব ছিল না ৷

একটা দুর্ঘটনা আর পুরো ছবি জুড়ে শিউলির বিদায়ের অপেক্ষা ৷ আর সেই অপেক্ষা কখনও কুয়াশা মাখা, কখনও শিশির ভেজা হয়ে সিনে ক্যানভাসে ছড়িয়ে পড়ে ৷ এই ছবির গতি পথ ঠিক যেন ধীরে ধীরে ফুল ফোটা,তারপর সেই ফুল ঘাসের ওপর ছড়িয়ে পড়া ৷
পুরো ঘটনাটাই যেন যুগের বিপরীতে ৷
আর তা ইচ্ছে করেই করেছেন পরিচালক ৷ এ গল্প তাড়াহুড়ো করে বলা সম্ভব নয়
কারণ এই গল্পের মূলই হল, একজন বেঁচে থাকার দিন গুণছে, আর তার আশেপাশের মানুষজন সবাই নিশ্চুপ!

সিনেমার ট্যাগ লাইনে সঠিক কথাই ব্যবহার করেছেন পরিচালক, এটা ভালোবাসার গল্প নয়, বরং গল্পে ভালোবাসা। অক্টোবর’ ছবিতে নায়ক রয়েছেন, নায়িকাও রয়েছেন ৷ রয়েছেন নায়ক-নায়িকার বাবা-মা ! কিন্তু নায়ক-নায়িকার প্রেম অব্যক্ত নৈশব্দে ভরপুর ৷ ঠিক যেমন, ছবির এক দৃশ্যে চোখের ইশারায় নায়িকার প্রেমের সমর্থন।
কিংবা হাসপাতালের বিছানায় নায়িকার পায়ের সামনে নায়কের নিজের ছবি রেখে আসা।

অক্টোবর সিনেমার মধ্যে দিয়ে অনেক প্রশ্ন রেখে গিয়েছেন পরিচালক সুজিত সরকার।
অনেক কিছু না বলেই বলেছেন তিনি। এটি অবশ্যই একটি প্রেম-কাহিনির সিনেমা, তবে সেটা সেই আগের চিরাচরিত নিয়মে বাধা নয়।
সরল সাদাসিধে একটি ছেলে, তার একটি সাধারণ জীবনযাপন ও শিউলির এমন নিশ্চুপ থাকা- সিনেমার প্রতিটা পদে পদে দর্শকমনকে নিজের সঙ্গে প্রশ্ন করার সুযোগ দিয়েছেন সুজিত। সিনেমাটি প্রেমধর্মী হলেও, একগাদা ডায়লগ নেই বা প্রেমের আবেগ ভেসে গিয়ে পাহাড়ের উপর নেচে-গেয়ে কোনো দৃশ্যও নেই।
একদম স্বাভাবিক ও সাধারণ দুটি মানুষের মনের ও অনুভূতিগুলিকে নিয়ে জাস্ট খেলেছেন পরিচালক “সুজিত সরকার”।
জীবনে শ্বাস কীভাবে নিতে হয়? মানুষ মানুষের মধ্যে সত্যিকারের ভালোবাসা কেমন হওয়া দরকার? জীবনের অনুপ্রেরণায় অন্য কাউকে বেঁধে ফেলে সবকিছুই যেন দর্শকমনের অন্তর্জামী হয়ে উঠেছেন সুজিত।

উক্ত সিনেমাটি দেখার সময় নিজের জীবনের বড় একটা অংশের সাথে মিল খুজেছি,এবং সেই অংশটা পেয়েছিও।
মৃত্যু পর্যন্ত আমরা যতোটা সময় বাচতে পারি,এই অল্প কিছু সময়ের মধ্যেই জীবনের মোড় অনেক দিকে নিয়ে যায়। আর আমাদের উচিৎ সেই শিক্ষাটিকে কাজে লাগিয়ে নিজের জীবন সঠিকভাবে পরিচালনা করা।

কারো জন্যে তো আর সময় বা জীবন থেমে থাকেনা।
তাই থেমে না থেকে উক্ত সমস্যার সমাধান খুজুন,এবং নিজেকে এমনভাবে গড়ে তুলুন যাতে করে পরবর্তীতে সেই ব্যাক্তির থেকেও ভালো কাউকে Disserve করেন এই জিনিসটা সে প্রতিটা মূহুর্তে মূহুর্তে অনুভব করতে পারে।

Share

2 comments

  1. July 31, 2022 at 10:35 am
    Imran

    Vlo cholo naah

    • August 3, 2022 at 2:24 pm
      admin

      কেনো?

Post comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Go Top